ইসলামী ইতিহাসের এই চার মহান নেতার জীবন, নেতৃত্ব এবং অসামান্য অবদান।
খিলাফতের সময়কাল: ৬৩২ – ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দ (২ বছর)
তাঁর আসল নাম আব্দুল্লাহ ইবনে আবি কুহাফা। আবুবকর ছিল তাঁর উপাধি, যা দ্বারা তিনি অধিক পরিচিত। ইসলাম গ্রহণের পর মহানবী (সা.) তাঁকে 'সিদ্দীক' (সত্যবাদী) উপাধি দেন। তিনি ছিলেন রাসূল (সা.)-এর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং প্রথম পুরুষদের মধ্যে একজন যিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।
মহানবী (সা.)-এর ওফাতের পর মুসলিম উম্মাহর ক্রান্তিকালে তিনি খলিফা নির্বাচিত হন। তাঁর খিলাফতের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো ছিল:
হিজরী ১৩ সালের জমাদিউল আউয়াল মাসে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ৬৩ বছর বয়সে মদিনায় ওফাত লাভ করেন। তাঁকে মসজিদে নববীতে রাসূল (সা.)-এর পাশে দাফন করা হয়।
খিলাফতের সময়কাল: ৬৩৪ – ৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দ (১০ বছর)
ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তিনি ছিলেন মক্কার একজন প্রভাবশালী ও কঠোর নেতা। মহানবী (সা.)-এর দোয়ার ফলে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর ইসলাম গ্রহণের পর মুসলিমরা প্রকাশ্যে কাবা ঘরে নামাজ আদায়ের সাহস পায়। তাঁর উপাধি ছিল 'আল-ফারুক' (সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী)।
হযরত আবুবকর (রা.)-এর অসিয়ত অনুযায়ী তিনি দ্বিতীয় খলিফা নির্বাচিত হন। তাঁর দশ বছরের শাসনামল ছিল ইসলামের স্বর্ণযুগ।
হিজরী ২৩ সালের যিলহজ মাসে আবু লুলু নামক এক পার্সিয়ান দাস ফজরের নামাজের সময় বিষাক্ত ছুরি দিয়ে তাঁকে আঘাত করে। তিন দিন পর তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তাঁকে মসজিদে নববীতে রাসূল (সা.) ও হযরত আবুবকর (রা.)-এর পাশে দাফন করা হয়।
খিলাফতের সময়কাল: ৬৪৪ – ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দ (১২ বছর)
তিনি কুরাইশ বংশের বনি উমাইয়া গোত্রের ছিলেন। ইসলামের প্রাথমিক জীবনেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁর সম্পদের উদার ব্যবহারের কারণে 'গণী' (দানশীল) উপাধিতে ভূষিত হন। রাসূল (সা.)-এর দু'জন কন্যাকে বিবাহ করার কারণে তিনি 'যুন-নুরাইন' (দুই জ্যোতির অধিকারী) নামে পরিচিত।
খিলাফতের শুরুটা ছিল শান্তিময়, কিন্তু শেষদিকে ফিতনা বা গৃহবিবাদ দেখা দেয়।
খিলাফতের শেষদিকে কিছু বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সৃষ্ট ফিতনার কারণে ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দে তাঁকে নিজ বাসভবনে অবরোধ করা হয়। তিনি শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ মোকাবেলা করার চেষ্টা করেন, কিন্তু বিদ্রোহীরা তাঁকে জিম্মি করে নৃশংসভাবে শহীদ করে। তাঁকে মদিনার জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
খিলাফতের সময়কাল: ৬৫৬ – ৬৬১ খ্রিষ্টাব্দ (৪ বছর)
তিনি ছিলেন মহানবী (সা.)-এর চাচাতো ভাই এবং জামাতা (ফাতেমা (রা.)-এর স্বামী)। বালকদের মধ্যে তিনি প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। মহানবী (সা.) তাঁকে 'আবু তুরাব' (মাটির পিতা) এবং 'আসাদুল্লাহ' (আল্লাহর সিংহ) উপাধি দেন। তাঁর জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও বীরত্ব সর্বজনবিদিত।
হযরত উসমান (রা.)-এর শাহাদাতের পর কুফাবাসীর চাপে তিনি খলিফা নির্বাচিত হন। তাঁর খিলাফতের পুরো সময়টাই ছিল আভ্যন্তরীণ ফিতনা ও গৃহযুদ্ধে জর্জরিত।
হিজরী ৪০ সালের রমজান মাসে কুফায় ফজরের নামাজে যাওয়ার সময় তাঁকে এক খারেজি ইবনে মুলজাম বিষাক্ত তলোয়ার দিয়ে আঘাত করে। দুই দিন পর তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তাঁকে ইরাকের কুফায় দাফন করা হয়।