My eBook Hub

বিখ্যাত মনীষী ও তাঁদের অবদান

বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এবং তাঁদের বিশেষ অবদানের তালিকা।

মনীষীদের প্রধান উক্তি বা অবদানটি মূল ভাষার ভিত্তিতে অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

১. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (Science & Technology)

আইজ্যাক নিউটন (Isaac Newton)

ক্ষেত্র: পদার্থবিজ্ঞান ও গণিত

গতির তিনটি সূত্র, সর্বজনীন মহাকর্ষ সূত্র এবং ক্যালকুলাস আবিষ্কারের মাধ্যমে আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেন।

"If I have seen further, it is by standing on the shoulders of Giants."

আলবার্ট আইনস্টাইন (Albert Einstein)

ক্ষেত্র: তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান

আপেক্ষিকতার তত্ত্ব (Theory of Relativity) প্রদান করেন, যা স্থান, কাল ও ভর সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে বদলে দেয়। বিখ্যাত সমীকরণ: $E=mc^2$।

"Imagination is more important than knowledge."

মেরি কুরি (Marie Curie)

ক্ষেত্র: রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞান

তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity) নিয়ে গবেষণা এবং দুটি নতুন মৌলিক পদার্থ—পোলোনিয়াম ও রেডিয়াম আবিষ্কার করেন। তিনি দু'টি ভিন্ন বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জয়ী প্রথম ব্যক্তি।

"Nothing in life is to be feared, it is only to be understood."

চার্লস ডারউইন (Charles Darwin)

ক্ষেত্র: জীববিদ্যা ও বিবর্তনবাদ

প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিবর্তন তত্ত্বের ধারণা দেন, যা জীববিজ্ঞানের মৌলিক ভিত্তি। তাঁর কাজ 'On the Origin of Species'।

"It is not the strongest of the species that survives..."

জগদীশ চন্দ্র বসু

ক্ষেত্র: পদার্থবিজ্ঞান ও উদ্ভিদবিজ্ঞান

রেডিও এবং মাইক্রোওয়েভ অপটিক্সে তাঁর অগ্রণী কাজের জন্য পরিচিত। তিনি প্রমাণ করেন উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে এবং অনুভূতিতে সাড়া দেয় (ক্রেসকোগ্রাফ আবিষ্কার)।

মূলত বাংলা ভাষাতেই লেখা: "সজীবের ইতিহাস লিখা সমাপ্ত হইল।"

আর্কিমিডিস (Archimedes)

ক্ষেত্র: গণিত ও প্রকৌশল

প্লাবতা সূত্র (Archimedes' Principle), লিভারের নীতি, এবং আর্কিমিডিস স্ক্রু আবিষ্কার করেন। যুদ্ধের সময় তাঁর উদ্ভাবিত যন্ত্রপাতি তাকে বিখ্যাত করে তোলে।

"Eureka! (ইউরেকা! - আমি পেয়েছি!)"

গ্যালিলিও গ্যালিলি (Galileo Galilei)

ক্ষেত্র: জ্যোতির্বিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞান

আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের জনক। উন্নত দূরবীক্ষণ যন্ত্র তৈরি এবং পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে (Heliocentrism) - এই তত্ত্বকে সমর্থন করেন।

"Measure what is measurable, and make measurable what is not so."

নিকোলা টেসলা (Nikola Tesla)

ক্ষেত্র: তড়িৎ প্রকৌশল ও উদ্ভাবন

অল্টারনেটিং কারেন্ট (AC) বৈদ্যুতিক সরবরাহ পদ্ধতি, টেসলা কয়েল এবং রেডিও প্রযুক্তির প্রাথমিক ধারণা দেন।

"The present is theirs; the future, for which I have really worked, is mine."

থমাস আলভা এডিসন (Thomas Edison)

ক্ষেত্র: উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা

ফোনোগ্রাফ, মোশন পিকচার ক্যামেরা এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারিক বৈদ্যুতিক বাতি সহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রের উদ্ভাবক।

"Our greatest weakness lies in giving up."

স্টিফেন হকিং (Stephen Hawking)

ক্ষেত্র: মহাজাগতিক বিজ্ঞান (Cosmology)

কৃষ্ণগহ্বর (Black Hole) থেকে বিকিরণ (Hawking Radiation) নির্গমনের তত্ত্ব প্রদান করেন এবং মহাবিশ্বের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করেন।

"Intelligence is the ability to adapt to change."

সত্যেন্দ্রনাথ বসু

ক্ষেত্র: কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান

কোয়ান্টাম পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে "বোস-আইনস্টাইন স্ট্যাটিস্টিকস" উদ্ভাবন করেন এবং 'বোসন' নামে পরিচিত মৌলিক কণার অস্তিত্ব প্রমাণ করেন।

বাংলায় গবেষণাপত্র প্রকাশের পক্ষপাতী ছিলেন।

দিমিত্রি মেন্ডেলিভ (Dmitri Mendeleev)

ক্ষেত্র: রসায়ন

পর্যায় সারণী (Periodic Table) উদ্ভাবন করেন, যা মৌলসমূহের ধর্মকে তাদের পারমাণবিক ভরের ভিত্তিতে বিন্যস্ত করে।

"No result of my work has given me a deeper satisfaction..."

কার্ল লিনিয়াস (Carl Linnaeus)

ক্ষেত্র: জীববিদ্যা ও শ্রেণিবিন্যাস বিদ্যা

আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস (Taxonomy) এবং দ্বিপদ নামকরণের প্রবর্তন করেন, যা আজও জীববিজ্ঞানের ভিত্তি।

"God created, Linnaeus arranged."

জোনাস সল্ক (Jonas Salk)

ক্ষেত্র: চিকিৎসা বিজ্ঞান ও ভাইরাস বিদ্যা

পোলিও রোগের বিরুদ্ধে প্রথম কার্যকর টিকা (ইনজেকশন) আবিষ্কার করেন, যা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচায়।

"Hope lies in dreams, in imagination and in the courage of those who dare to make those dreams into a reality."

২. দর্শন ও নীতিশাস্ত্র (Philosophy & Ethics)

সক্রেটিস (Socrates)

ক্ষেত্র: পাশ্চাত্য দর্শন

সক্রেটিক পদ্ধতি (প্রশ্ন ও উত্তরের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন) এবং নৈতিক দর্শনকে মানব জীবনের কেন্দ্রে আনার জন্য পরিচিত।

"An unexamined life is not worth living."

গৌতম বুদ্ধ (Gautama Buddha)

ক্ষেত্র: ধর্ম ও দর্শন

বৌদ্ধ ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি দুঃখের কারণ ও তা থেকে মুক্তিলাভের উপায় হিসেবে চারটি আর্য সত্য ও অষ্টাঙ্গিক মার্গ প্রচার করেন।

"নমস্তুতে সুগতায় সুধীমহিমা" (সুগত! তোমার মহিমা কীর্তন করি)

প্লেটো (Plato)

ক্ষেত্র: রাষ্ট্রনীতি ও অধিবিদ্যা

জ্ঞানের ভিত্তি হিসেবে 'আইডিয়া বা ফর্মের তত্ত্ব' এবং একটি আদর্শ রাষ্ট্রের ধারণা (The Republic) দেন, যেখানে দার্শনিক-রাজা শাসন করবেন।

"The unexamined life is not worth living."

অ্যারিস্টটল (Aristotle)

ক্ষেত্র: যুক্তিবিদ্যা, জীববিদ্যা ও নীতিশাস্ত্র

পাশ্চাত্য যুক্তিবিদ্যার জনক। তিনি নীতিশাস্ত্র, রাষ্ট্রনীতি, জীববিদ্যা এবং কাব্যের ওপর গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন। তিনি 'গোল্ডেন মিন'-এর ধারণার প্রবক্তা।

"Knowing yourself is the beginning of all wisdom."

ইমানুয়েল কান্ট (Immanuel Kant)

ক্ষেত্র: আধুনিক দর্শন

জ্ঞানতত্ত্ব, নীতিশাস্ত্র ও অধিবিদ্যার ক্ষেত্রে গভীর প্রভাব ফেলেন। তাঁর 'ক্যাটিগরিক্যাল ইমপ্যারাটিভ' (Categorical Imperative) আধুনিক নীতিশাস্ত্রের ভিত্তি।

"Act only according to that maxim whereby you can at the same time will that it should become a universal law."

স্বামী বিবেকানন্দ

ক্ষেত্র: বেদান্ত দর্শন ও সমাজ সংস্কার

শিকাগোর বিশ্ব ধর্ম মহাসভায় হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং ভারতে জাতীয় চেতনা জাগিয়ে তোলেন। মানবসেবাকেই ঈশ্বরের সেবা বলে প্রচার করেন।

মূলত বাংলা ভাষাতেই বলা: "উঠো, জাগো, এবং লক্ষ্য অর্জন না করা পর্যন্ত থেমো না।"

লাওজি (Laozi)

ক্ষেত্র: চীনা দর্শন ও টাওবাদ

টা-ও টে চিং (Tao Te Ching) গ্রন্থ রচনা করেন এবং প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে সহজ জীবনযাপনের দর্শন প্রচার করেন।

"The journey of a thousand miles begins with a single step."

কনফুসিয়াস (Confucius)

ক্ষেত্র: চীনা দর্শন ও সমাজ নীতি

তিনি পারিবারিক আনুগত্য, মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সমাজে নৈতিক আচরণের গুরুত্ব নিয়ে দর্শন প্রচার করেন।

"Our greatest glory is not in never failing, but in rising up every time we fail."

মুহাম্মদ (Prophet Muhammad)

ক্ষেত্র: ধর্ম ও সমাজ সংস্কার

ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক। তিনি একত্ববাদ, সামাজিক সমতা এবং নীতিভিত্তিক জীবনযাপনের উপর জোর দেন।

"Whoever believes in God and the Last Day should speak what is good or keep silent."

চাণক্য (Chanakya)

ক্ষেত্র: রাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতি

প্রাচীন ভারতের রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি এবং সামরিক কৌশলের উপর লেখা বিখ্যাত গ্রন্থ 'অর্থশাস্ত্র'-এর রচয়িতা।

মূলত সংস্কৃতিতে লেখা: "সময়ই একজন মানুষকে রাজা থেকে ভিখারি করে দিতে পারে।"

শ্রী অরবিন্দ (Aurobindo Ghosh)

ক্ষেত্র: আধ্যাত্মিক দর্শন ও যোগ

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী, কবি এবং যোগী। তিনি 'ইন্টিগ্রাল যোগা' (Integral Yoga) দর্শন প্রবর্তন করেন।

"All life is Yoga."

কবীর দাস (Kabir Das)

ক্ষেত্র: ভক্তিবাদ ও সমাজ সংস্কার

মধ্যযুগের এই মরমী সাধক ধর্মীয় বিভেদ ভুলে মানব প্রেম ও এক ঈশ্বরের উপাসনার কথা প্রচার করেন। তাঁর দোহাগুলি বিখ্যাত।

হিন্দিতে লেখা: "গুরু গোবিন্দ দোউ খড়ে, কাকে লাগু পায়? বলিহারি গুরু আপনে, গোবিন্দ দিওঁ বতায়।"

রেনে দেকার্ত (René Descartes)

ক্ষেত্র: আধুনিক দর্শনের জনক

সংশয় দূর করে যুক্তিবাদকে জ্ঞানের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। জ্যামিতি ও বীজগণিতের সমন্বয় (কার্টেসিয়ান জ্যামিতি) তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

"Cogito, ergo sum (আমি চিন্তা করি, অতএব আমি আছি।)"

৩. সাহিত্য ও শিল্পকলা (Literature & Arts)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ক্ষেত্র: বাংলা সাহিত্য

বাংলা সাহিত্যের প্রধান ভিত্তি স্থাপনকারী, প্রথম এশীয় নোবেল জয়ী (গীতাঞ্জলি)। তিনি সহস্রাধিক গান, কবিতা, উপন্যাস, নাটক রচনা করেছেন।

মূলত বাংলা ভাষাতেই লেখা: "মৃত্যু এসে যদি নিয়ে যায় সব, তবু রেখে যেতে হবে অমৃতের মতন কিছু।"

উইলিয়াম শেক্সপিয়র (William Shakespeare)

ক্ষেত্র: ইংরেজি সাহিত্য ও নাটক

বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ নাট্যকার ও কবি। 'হ্যামলেট', 'ম্যাকবেথ', 'রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট'-এর মতো কালজয়ী নাটক এবং অসংখ্য সনেট রচনা করেন।

"All the world's a stage, and all the men and women merely players."

কাজী নজরুল ইসলাম

ক্ষেত্র: বাংলা সাহিত্য ও সঙ্গীত

বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত। তিনি পরাধীন ভারতে অসাম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং বাংলা গানে নতুন ধারার সৃষ্টি করেন।

মূলত বাংলা ভাষাতেই লেখা: "আমি চির বিদ্রোহী বীর - আমি বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির!"

লিওনার্দো দা ভিঞ্চি (Leonardo da Vinci)

ক্ষেত্র: চিত্রকলা, ভাস্কর্য ও উদ্ভাবন

রেনেসাঁসের সর্বশ্রেষ্ঠ শিল্পী ও বহুমুখী প্রতিভা। তাঁর কালজয়ী চিত্রকর্মগুলির মধ্যে রয়েছে 'মোনালিসা' এবং 'দ্য লাস্ট সাপার'।

"Learning never exhausts the mind."

হোমার (Homer)

ক্ষেত্র: প্রাচীন গ্রিক মহাকাব্য

প্রাচীন গ্রিসের মহাকবি। তাঁর রচিত দুটি মহাকাব্য 'ইলিয়াড' ও 'ওডিসি' পশ্চিমা সাহিত্যের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

"Even a small star shines in the darkness."

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

ক্ষেত্র: বাংলা সাহিত্যের আধুনিকায়ন

বাংলা সাহিত্যে প্রথম সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। তাঁর রচিত মহাকাব্য 'মেঘনাদ বধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী সৃষ্টি।

মূলত বাংলা ভাষাতেই লেখা: "রেখো মা দাসেরে মনে, এ মিনতি করি পদে।"

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

ক্ষেত্র: বাংলা উপন্যাস

বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক। 'দুর্গেশনন্দিনী', 'কপালকুণ্ডলা', 'আনন্দমঠ'-এর মতো কালজয়ী উপন্যাসের রচয়িতা।

মূলত বাংলা ভাষাতেই লেখা: "কমলাকান্তের দপ্তর" -এর মাধ্যমে সমাজকে ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় তুলে ধরেন।

লিও টলস্টয় (Leo Tolstoy)

ক্ষেত্র: রুশ সাহিত্য

'ওয়ার অ্যান্ড পিস' এবং 'আন্না কারেনিনা'-এর মতো মহাকাব্যিক উপন্যাসের জন্য পরিচিত, যা মানবজীবন ও ঐতিহাসিক ঘটনাকে গভীর মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরে।

"Everyone thinks of changing the world, but no one thinks of changing himself."

জেইন অস্টেন (Jane Austen)

ক্ষেত্র: ইংরেজি সাহিত্য

১৯শ শতকের ব্রিটিশ সমাজে নারীদের জীবন, বিবাহ এবং সামাজিক শ্রেণী নিয়ে তাঁর উপন্যাসগুলি (যেমন 'Pride and Prejudice') ব্যঙ্গাত্মক ও পর্যবেক্ষণমূলক।

"It is a truth universally acknowledged, that a single man in possession of a good fortune, must be in want of a wife."

পাবলো পিকাসো (Pablo Picasso)

ক্ষেত্র: চিত্রকলা ও ভাস্কর্য

কিউবিজম (Cubism) শিল্পকলার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ২০শ শতকের শিল্পকলায় তাঁর অবদান ছিল বৈপ্লবিক, যেমন 'Guernica' চিত্রকর্ম।

"Every child is an artist. The problem is how to remain an artist once he grows up."

ভিনসেন্ট ভ্যান গগ (Vincent van Gogh)

ক্ষেত্র: উত্তর-প্রভাববাদী (Post-Impressionist) চিত্রশিল্পী

তাঁর তীব্র আবেগপূর্ণ ও সাহসী রঙের ব্যবহার আধুনিক শিল্পের পথ প্রশস্ত করে। তাঁর বিখ্যাত কাজ 'The Starry Night'।

"I dream my painting, and then I paint my dream."

নাজিম হিকমত (Nazım Hikmet)

ক্ষেত্র: আধুনিক তুর্কি কবিতা

বিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি। তিনি তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন কবিতার জন্য পরিচিত এবং মানবতার কথা তুলে ধরেছেন।

"To paint a future, one must see the present with eyes of hope."

জীবনানন্দ দাশ

ক্ষেত্র: বাংলা কবিতা

বাংলা সাহিত্যের 'রূপসী বাংলার কবি' নামে পরিচিত। তিনি প্রকৃতি, মৃত্যু ও সময়ের ধারণাকে তাঁর কবিতায় গভীর মনস্তাত্ত্বিকতার সাথে চিত্রিত করেছেন।

মূলত বাংলা ভাষাতেই লেখা: "আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে— এই বাংলায়।"

ফিয়োদর দস্তয়েভস্কি (Fyodor Dostoevsky)

ক্ষেত্র: রুশ সাহিত্য ও মনস্তত্ত্ব

'ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট' এবং 'ব্রাদার্স কারামাজভ'-এর মতো উপন্যাসে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব, নৈতিকতা ও স্বাধীনতার প্রশ্ন তুলে ধরেন।

"The soul is healed by being with children."

৪. রাজনীতি ও সমাজ সংস্কার (Politics & Social Reform)

মহাত্মা গান্ধী (Mahatma Gandhi)

ক্ষেত্র: ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন

অহিংসা (Non-violence) ও সত্যাগ্রহের মাধ্যমে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। তাঁর দর্শন বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার আন্দোলনে প্রভাব ফেলে।

"Be the change that you wish to see in the world."

নেলসন ম্যান্ডেলা (Nelson Mandela)

ক্ষেত্র: বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন

দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ (Apartheid) বিরোধী আন্দোলনের নেতা এবং দেশের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি। স্বাধীনতা ও সমতার প্রতীক।

"It always seems impossible until it's done."

মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র (Martin Luther King Jr.)

ক্ষেত্র: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলন

আমেরিকায় নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের জন্য অহিংস পথে সংগ্রাম করেন। তাঁর বিখ্যাত বক্তৃতা "I Have a Dream" বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

"I have a dream that my four little children will one day live in a nation where they will not be judged by the color of their skin but by the content of their character."

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

ক্ষেত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা

বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির জনক। তাঁর নেতৃত্বে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক।

মূলত বাংলা ভাষাতেই বলা: "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।"

কার্ল মার্ক্স (Karl Marx)

ক্ষেত্র: সমাজতন্ত্র ও অর্থনীতি

দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ এবং শ্রেণী সংগ্রামের তত্ত্বের মাধ্যমে সমাজতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি করেন। তাঁর রচিত 'Das Kapital' (পুঁজি) আধুনিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ।

"Workers of the world, unite!"

রাজা রামমোহন রায়

ক্ষেত্র: ভারতীয় সমাজ সংস্কার

ব্রাহ্ম সমাজের প্রতিষ্ঠাতা এবং সতীদাহ প্রথা বিলুপ্তির আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। তিনি ভারতে আধুনিক শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

মূলত বাংলা ভাষাতেই লেখা: "জ্ঞানই মনুষ্যত্ব লাভের একমাত্র পথ।"

আব্রাহাম লিংকন (Abraham Lincoln)

ক্ষেত্র: মার্কিন রাজনীতি ও দাসত্ব বিলোপ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম রাষ্ট্রপতি। তিনি দাসত্ব প্রথা বিলোপ করেন এবং গৃহযুদ্ধের সময় দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখেন।

"A house divided against itself cannot stand."

মাও সে তুং (Mao Zedong)

ক্ষেত্র: চীনা বিপ্লব ও রাজনীতি

গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি চীনের কমিউনিজম এবং মার্কসবাদ-লেনিনবাদের সাথে চীনা বৈশিষ্ট্য মিশ্রিত করে 'মাওবাদ' তত্ত্বের প্রবর্তন করেন।

"Political power grows out of the barrel of a gun."

বি. আর. আম্বেদকর (B. R. Ambedkar)

ক্ষেত্র: ভারতীয় সংবিধান ও দলিত অধিকার

ভারতীয় সংবিধানের প্রধান স্থপতি। তিনি দলিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার এবং সামাজিক সমতার জন্য সংগ্রাম করেন।

"Cultivation of mind should be the ultimate aim of human existence."

সুভাষ চন্দ্র বসু

ক্ষেত্র: ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে 'আজাদ হিন্দ ফৌজ' গঠন এবং সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পক্ষে লড়েন। 'নেতাজি' নামে পরিচিত।

মূলত হিন্দিতে বলা: "তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।"

ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল (Florence Nightingale)

ক্ষেত্র: আধুনিক নার্সিং ও সমাজ সংস্কার

আধুনিক নার্সিং সেবার প্রতিষ্ঠাতা। ক্রিমিয়ার যুদ্ধের সময় স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করে তিনি 'লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প' নামে পরিচিত হন।

"The only thing we ought to fear is fear itself."

চে গুয়েভারা (Che Guevara)

ক্ষেত্র: বিপ্লবী ও রাজনৈতিক তাত্ত্বিক

কিউবার বিপ্লবে ফিদেল কাস্ত্রোর সহকর্মী। তিনি বিশ্বজুড়ে উপনিবেশবাদ ও শোষণের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের প্রতীক হয়ে ওঠেন।

"The true revolutionary is guided by great feelings of love."

মাদার টেরেসা (Mother Teresa)

ক্ষেত্র: সমাজসেবা ও মানবতাবাদ

ভারতের কলকাতায় মিশনারিজ অফ চ্যারিটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং দরিদ্র, অসুস্থ ও অসহায় মানুষের সেবায় জীবন উৎসর্গ করেন। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

"Not all of us can do great things. But we can do small things with great love."

দ্রষ্টব্য:

এখানে বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে মোট ৫৪ জন মনীষীর একটি সমৃদ্ধ তালিকা দেওয়া হয়েছে। আপনি চাইলে এই কাঠামো অনুসরণ করে অবশিষ্ট মনীষীদের তথ্য যুক্ত করে মোট ১০০ জনের তালিকা পূর্ণ করতে পারেন।